চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মুনাফা অর্জন করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ শুল্কের প্রভাবে ঋণ চাহিদা ও ব্যবসায়িক মনোভাব দুর্বল হতে পারে। খবর রয়টার্স।
মার্চে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এইচএসবিসি ৯৫০ কোটি ডলার করপূর্ব মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলার। মুনাফা কমার কারণ হলো কানাডা ও আর্জেন্টিনায় ব্যবসা বিক্রি করায় এককালীন কিছু খরচ। এর আগে বিশ্লেষকরা এইচএসবিসির জন্য ৭৮০ কোটি ডলার মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
আর্থিক প্রতিবেদনে নতুন করে ৩০০ কোটি ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছে এইচএসবিসি। এরপর হংকংয়ে এইচএসবিসির শেয়ারমূল্য ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যায়, যেখানে হ্যাং সেং সূচক ছিল স্থিতিশীল। লন্ডনেও এইচএসবিসির শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।
মুনাফা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে এইচএসবিসি। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জর্জেস এলহেডেরি জানান, সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব নির্ধারণে এইচএসবিসি আয়ের উৎস ও ঋণ পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করেছে।
জর্জেস এলহেডেরি বলেন, ‘বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আমরা দেখেছি, যেসব খাত শুল্ক মওকুফ বা ছাড় পায়নি, সেসব ক্ষেত্রে মার্কিন-চীন বাণিজ্যিক চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।’
এইচএসবিসি জানিয়েছে, মেক্সিকোয় কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও অঞ্চলটি এখনো তাদের বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকবে।
বিশ্লেষকরা বিশেষ করে এশিয়ায় ব্যাংকটির শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। এ প্রান্তিকে নতুন বিনিয়োগকৃত সম্পদ ২ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেড়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের উৎস এশিয়া।